বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০২:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

জুমুআর দিন মুমিনের অফুরান সাওয়াব হাসিলের দিনঃ

মোঃজিয়া জিয়া উর রহমান জিয়া সরকার ব্যুরো প্রধান, ময়মনসিংহ।
  • Update Time : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১
  • ৫৬ Time View

 

আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির সেরা হিসাবে মানুষকে ঘোষনা করেছেন। মানুষকে দুনিয়াতে কর্তৃত্ব দিয়ে সম্মানীত করেছেন আর পরকালে জান্নাতের বিনিময়ে সম্মানীত করেছেন।উম্মাতে মুহাম্মদীকে মহান আল্লাহ তায়ালা জুমুআর দিনের মাধ্যমে নিয়ামত দান করেছেন। জুমুআর দিনের মতো নিয়ামতের দিন পূর্বের উম্মত গন লাভ করেননি। এই মহান দিনের সম্মান নিয়ে রাসুল (সাঃ) বলেন !সূর্যের নিচে সর্ব শেষ্ঠ দিন হল জুমুআর দিন।এই দিনেই আল্লাহ তায়ালা আদম আঃকে সৃষ্টি করেন।এই দিনেই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান,এবং এই দিনেই তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়। রাসুল (সাঃ) আরো বলেন,সকল দিবসের নেতা ও আল্লাহর নিকট মর্যাদাবান দিন হলো জুমুআর দিন।এই দিনটি আল্লাহর নিকট ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা থেকেও মর্যাদাবান। জুমুআর দিনের ৫ টি বৈশিষ্ট্য হলো,এই দিনে আদম (আঃ) মৃত্যুবরন করেন, এই দিনে এমন একটি সময় আছে এইদিনে বান্দা যা চাইবে মহান আল্লাহ তাই দিবেন,এই দিনেই কিয়ামত হবে,সকল ফেরেসতা, আকাশ,যমিন,পাহাড়, বাতাস,সমুদ্র সবাই শুক্রবারে ভয়ে কম্পমান থাকে।মুসলিম। রাসুল (সাঃ) আরও বলেন,তোমাদের দিনগুলির মধ্য সর্বোত্তম দিন হলো জুমুআর দিন।,,,,কাজেই তোমরা এদিনে আমার উপর বেশি করে দুরুদ পরবে। কারন তোমাদের দুরুদ আমার উপর পেশ করা হয়। সাহাবীগন বলেন হে আল্লাহর রাসুল, আপনিতো কবরের মাটিতে বিলুপ্ত হয়ে যাবেন,মিশে যাবেন, তাহলে কিভাবে আমাদের দুরুদ আপনার নিকট পেশ করা হবে? রাসুল (সাঃ) বলেন,আমাদের নবীদের দেহ ভক্ষন করা আল্লাহ মাটির জন্য হারাম করেছেন। আবু দাউদ।সুপ্রিয় পাঠক, এই দিনের সর্বোত্তম আমল হলো জুমুআর নামাজ আদায় করা।আল্লাহ তায়ালা বলেন,হে ঈমানদারগন, যখন জুমুআর দিনে নামাজের জন্য আহবান করা হবে,তখন তোমরা আল্লাহর জিকিরের দিকে ধাবিত হবে এবং ব্যাবসা,বানিজ্য পরিত্যাগ করবে।এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে পার। সুপ্রিয় পাঠক জুমুআর সালাত আদায় করা মুসলমানের জন্য অন্যতম ফরজ ইবাদত। ইচ্ছাপুর্বক জুমুআর সালাত ত্যাগ করা কঠিন গুনাহের কাজ।রাসুল (সাঃ) বলেন,কেউ যদি ভালোবাবে ওজু করে,এরপর জুমুআর নামাজে উপস্থিত হয়,এবং নিরবে মনোযোগের সাথে খুৎবা শুনে,তবে এক জুমুআ থেকে আরেক জুমুআ এই ৭ দিন সহ অতিরিক্ত ৩ দিনের সগীরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।আর যদি কেও ইমামের খুৎবার সময় কাকঁর স্পর্শ করে তবে সে ফজিলত থেকে বন্ঞ্চিত হবে।মুসলিম। অর্থাৎ খুৎবার সময়ে কথা সহ যাবতীয় কাজ থেকে বিরত থাকবে। সুপ্রিয় পাঠক, রাসুল (সাঃ) জুমুআর দিনে কিছু কাজের আদেশ দিয়েছেন,জুমুআর দিনে গোসল করা,সুগন্ধি ব্যাবহার করা,সবচেয়ে উত্তম পোশাক পরিধান করা,মসজিদে হেঁটে যাওয়া,সকাল সকাল মসজিদে যাওয়া, মসজিদে প্রবেশ করে নফল ও সুন্নত নামাজ আদায় করা,মসজিদে আগত কোনো মুসুল্লি কে কষ্ট না দেয়া,কারও ঘাঁড়ের উপর দিয়ে না যাওয়া,দুইজনের মাঝে ঠেলেঠুলে না বসা,ইমামের নিকটবর্তী হয়ে বসা,মনোযোগের সাথে ইমামের বয়ান শুনা।রাসল (সাঃ) আরোও বলেন,কেউ যদি জুমুআর দিনে উত্তম ভাবে গোসল করে,তারাতারি মসজিদে গমন করে,বাহনে না গিয়ে হেঁটে যায়,ইমামের নিকটবর্তী হয়,খুৎবা মনোযোগের সাথে শ্রবন করে এবং কথা না বলে তবে তার প্রত্যেকটা কাজের বিনিময়ে এক বছরের নফল সিয়াম ও তাহাজ্জুদের সাওয়াব লাভ করবে।আবু দাউদ। সুপ্রিয় পাঠক আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জুমুআর দিনের আরো অনেক অনেক ফজিলত মুসলিম উম্মাহর জন্য দান করেছেন। আমরা মুসলিম জাতী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দেওয়া জুমুআর দিনের প্রতিটি ফজিলত জেনে আমলেরন মাধ্যমে নিজেদের জীবনে সফলতার পাথেয় হিসেবে গ্রহন করা।মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে আমল করার তৌফিক দান করুন।আমিন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 abcbdtv
Design & Develop BY ABC BD TV
themesba-lates1749691102