বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১, ০২:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ

১৫ আগস্ট দলের নেতা ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন শেখ হাসিনার

ABC BD TV
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২৬ আগস্ট, ২০২১
  • ১১২ Time View

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডে সেনাবাহিনীর পাশাপাাশি আওয়ামী লীগ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা ও দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমাদের বাসায় যখন গুলি শুরু হয়, বঙ্গবন্ধু কিন্তু সবাইকে ফোন করেছিলেন। আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে কথা হয়, তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে কথা হয়, সেনাপ্রধান শফিউল্লাহর সঙ্গে কথা হয়। সেনাবাহিনীরও যার যা ভূমিকা ছিল তারাও কিন্তু সঠিকভাবে তা পালন করেনি। এর পেছনে রহস্যটা কী? সেটাই কথা।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব  কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রান্তে যুক্ত ছিলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রথমে সেরনিয়াবাত সাহেবের বাসায় বা শেখ মণির বাসায় যখন আক্রমণ শুরু হয় তখন খবরটা আসার সঙ্গে সঙ্গে এবং আমাদের বাসায় যখন গুলি শুরু হয় বঙ্গবন্ধু কিন্তু সবাইকে ফোন করেছিলেন। এ রকম একটা ঘটনার পর আমাদের দল, সমর্থক, মুক্তিযোদ্ধাদের যে ভূমিকা ছিল তা হয়তো তারা করতে পারেনি। ১৯৮১ সালে নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে আসার ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, ফিরে আসার পরে সেই চেনা মুখগুলো পাইনি। বনানীতে সারি সারি কবর পেলাম। তবে পেয়েছি লাখো মানুষ আর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী। তাদের ভালোবাসা ও আস্থা-বিশ্বাস। তাই বলতে পারি, আওয়ামী লীগই আমার পরিবার। বাংলাদেশটাই আমার পরিবার। সেভাবেই দেশটাকে দেখি। যতটুকু কাজ করতে পারব, মনে হয় তাতে আমার আব্বা-আম্মার আত্মাটা শান্তি পায়। সে চিন্তা করেই কাজ করি। তাই আমার কোনো মৃত্যুভয়, আকাক্সক্ষা ও চাওয়া-পাওয়া নেই। ঢাকা মহানগরী উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মহানগরী দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহসভাপতি নুরুল আমিন রুহুল, উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি কাদের খান, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ কামাল ও উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান মতি, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আকতার হোসেন ও উত্তর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রানা। সভা পরিচালনা করেন মহানগরী উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি। সভায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সব শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে ১৫ আগস্ট শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

খুনি মোশতাকের মূল শক্তি ছিলেন জিয়াউর রহমান : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছে তাঁর কোনো প্রমাণ নেই। তিনি খুনি মোশতাকের মূল শক্তি ছিলেন। কারণ ক্ষমতা দখল করতে আর হত্যাকান্ড চালাতে নিশ্চয়ই সামরিক বাহিনীর কিছু সহযোগিতা দরকার ছিল। তাই মোশতাক-জিয়া মিলেই এ চক্রান্তটা করেছিল। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ক্ষমতা দখলকারী খন্দকার মোশতাক আহমদ সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে। কারণ জিয়া ছিলেন মোশতাকের মূল শক্তি। শেখ হাসিনা বলেন, মোশতাক জিয়ার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্রপতি হয়েছিল। কিন্তু সে কত দিন থাকতে পেরেছিল? থাকতে কিন্তু পারেনি। মীর জাফরও পারেনি। কারণ বেইমানদের ব্যবহার করে সবাই। তাদের বিশ্বাস করে না, রাখে না। জিয়াউর রহমান সে কাজটাই করেছিল। মোশতাক কিন্তু তিন মাসও পূর্ণ করতে পারেনি। তাকে বিদায় নিতে হয়েছিল। জেলখানার হত্যাকান্ডও হয় জিয়াউর রহমানের নির্দেশে। সে-ই করেছে। কারণ সে-ই সব ক্ষমতার অধিকারী ছিল তখন।

জিয়া পাকিস্তানি বাহিনীর হয়ে কাজ করেছেন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা ও অস্তিত্বে কখনো বিশ্বাস করতেন না। তিনি পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্য হয়ে কাজ করেছেন। কারণ পাকিস্তান থেকে সোয়াত জাহাজে যেসমস্ত অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর একজন হিসেবে সে জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করতে যাচ্ছিল। সেখানে পাবলিক তাকে ঘেরাও দেয় এবং ধরে নিয়ে আসে। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান যে কোথায় যুদ্ধ করেছেন এমন ইতিহাস কোনো দিন শোনা যায়নি। আমাদের অনেক মুক্তিযোদ্ধা আহত হয়েছেন। বিভিন্ন ফিল্ডে যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু তাঁর সে ধরনের কোনো ইতিহাস নেই। আমাদের চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা… আমাদের এমপি মোশাররফ সাহেব আছেন। তিনি সরাসরি অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছিলেন। তারা কিন্তু তার নাম দিয়েছিল ‘মিস্টার রিট্টিট’। ওনাদের কাছে গল্প শুনেছি, যেখানেই যুদ্ধ লাগত তার চেয়ে অন্তত তিন মাইল দূরে থাকত জিয়াউর রহমান। সে কখনো অস্ত্রহাতে সামনাসামনি যুদ্ধ করেনি। তাকে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল কিছুদিনের জন্য। ১৫ আগস্ট হত্যাকান্ডের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জেনারেল জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযোদ্ধা যারাই ছিলেন বঙ্গবন্ধু সবাইকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। কাজেই তার সংসারটা টিকিয়ে রাখার জন্যই তাকে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট থেকে ঢাকায় নিয়ে এসে উপ-সেনাপ্রধান করা হয়। কিন্তু সে কখনো বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করত না। স্বাধীনতায় বিশ্বাস করত না। তিনি বলেন, যেহেতু ২৫ মার্চ পাকিস্তান হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করে, সেহেতু আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল এবং একটা নির্দেশনাও ছিল যে স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা ইপিআরের ওয়ারলেসের মাধ্যমে প্রচার করে দেওয়া। পাকবাহিনী যখন আক্রমণ শুরু করে তার পরপরই স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রচার করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ জাতির পিতা ঘোষণা দেওয়ার পরও জিয়াউর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সৈনিক হিসেবেই, তাদের একজন সামরিক অফিসার হিসেবে কাজ করছিল এবং চট্টগ্রামে আমাদের নেতা-কর্মী যখন ব্যারিকেড দিচ্ছিল, তার হাতে কিন্তু অনেকে নিহত হয়েছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের সে সব সময় বাধা দিয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতার সে ঘোষণাটিই ২৬ তারিখ দুপুরে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হান্নান সাহেব প্রথম পাঠ করেন। এরপর একে একে আমাদের যারা নেতা ছিলেন সবাই পাঠ করেন। সে সময় নেতারা মনে করলেন, একজন সামরিক অফিসারকে দিয়ে যদি ঘোষণাটি পাঠ করানো যায় তাহলে একটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে- এমনটি মনে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, মেজর রফিককে প্রথম বলা হয়, তিনি তখন পাকিস্তানিদের সঙ্গে যুদ্ধ করছেন এবং অ্যাম্বুশ করে বসে আছেন। তিনি বললেন, আমি যদি সরে যাই তাহলে এটা দখল করে নেবে। তখন জিয়াউর রহমানকে ধরে নিয়ে এসে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের ট্রান্সমিশন অফিস থেকে ঘোষণাটি পাঠ করানো হলো। যদিও প্রথম দিকে তার আপত্তি ছিল। এভাবেই জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে কোনো সরকারই দেশের উন্নয়ন করেনি বলে জানিয়ে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান কিছু প্রচার পেয়েছিল। সে নাকি গণতন্ত্র দিয়েছে। যে দেশে প্রতি রাতে কারফিউ থাকে, সেটা আবার গণতন্ত্র হয় কীভাবে? ভোট চুরি থেকে সবকিছুই এই জিয়াউর রহমান শুরু করে। এমনকি সংবিধান লঙ্ঘন করাও সে শুরু করে। আমাদের সৌভাগ্য যে হাই কোর্টের একটি রায়ে সামরিক আইন দিয়ে ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

জিয়ার কবরে তার লাশ নেই : চন্দ্রিমা উদ্যানে মারামারির ঘটনায় বিএনপির প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চন্দ্রিমা উদ্যানে জিয়াউর রহমানের কবরে তার লাশ নেই। জিয়ার কবর নেই। খালেদা জিয়াও ভালোভাবে জানেন। তাহলে সেটা নিয়ে এত নাটক করে কেন বিএনপি? তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বা তারেক জিয়া কি বলতে পারবেন, তারা স্বামী বা বাবার লাশ দেখেছেন? গুলি খাওয়া লাশ তো দেখাই যায়। তারা কি দেখেছেন কখনো, বা কোনো একটা ছবি? দেখেনি। কারণ, ওখানে কোনো লাশ ছিল না। তিনি বলেন, ‘ওখানে একটা বাক্স (কফিন বাক্স) আনা হয়েছিল। এরশাদের মুখ থেকেই শোনা, ওই বাক্সের ফাঁক দিয়ে দেখা গেছে যে সে লাশের কমব্যাট ড্রেস পরা ছিল। জিয়াউর রহমান তখন প্রেসিডেন্ট, তখন তো সে কমব্যাট ড্রেস পরে না। এটা কি বিএনপির লোকেরা জানে না? সেখানে যেয়ে তাদের মারামারি করার চরিত্র এখনো যায়নি।

বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য সফল হতে দেব না : আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমি শুধু এটুকু চাই, যারা ষড়যন্ত্রকারী, চক্রান্তকারী, যে উদ্দেশ্য নিয়ে জাতির পিতাকে ১৫ আগস্ট হত্যা করেছে, তাদের উদ্দেশ্য তো ছিল বাংলাদেশকে ব্যর্থরাষ্ট্র বানানো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ব্যর্থ হোক, স্বাধীনতার আদর্শ ধ্বংস হয়ে যাক- সেটা করতে দেব না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর তারা ইতিহাস বিকৃত করেছিল। আমার দেখা নয়া চীন, কারাগারের রোজনামচা, বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী, ১৪ খন্ডে এসবির গোয়েন্দা রিপোর্ট থেকেই সত্যিকারের রিপোর্ট বের হয়ে আসছে। শেখ হাসিনা বলেন, আমার মৃত্যুভয় নেই। কোনো আকাক্সক্ষাও নেই। ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য ছিল- বাংলাদেশ ব্যর্থ হোক, স্বাধীনতার চেতনা মুছে যাক; সেটা করতে দেব না। জাতির পিতার নাম তারা এখন আর মুছতে পারবে না। যে ইতিহাস তারা মুছতে চেয়েছিল তারা আর পারবে না। আমার দেখা নয়া চীন বেরিয়েছে। জাতির পিতার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা রিপোর্টও সাত খন্ডে বেরিয়েছে, বাকিটাও বের হবে। তিনি বলেন, দেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। উন্নয়নশীল থেকে বাংলাদেশকে উন্নত দেশ করব- এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমে ২০ ভাগে নেমেছে, মাথাপিছু আয় ২ হাজার ২২৭ ডলারে এসে দাঁড়িয়েছে। রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়নে উন্নীত। ’৭৫-এর স্মৃতিচারণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা দরিদ্র জাতিকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে দেবেন সে ওয়াদাই তিনি করেছিলেন। শুধু বলেননি, মাত্র সাড়ে তিন বছরে করেও দেখিয়েছিলেন। সে সময়ও স্বাধীনতাবিরোধীরা অপপ্রচার করেছিল। চিলমারীতে বাসন্তী নামক পাগলকে জাল পরিয়ে দেখিয়েছে, কাপড় দিতে পারে না। অথচ তখন কাপড়ের দাম ছয়-সাত টাকা আর জালের দাম ১৫০ টাকা ছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ব্যর্থরাষ্ট্র করা এবং স্বাধীনতাটাই ভুল, সেটা দেখানোর জন্য সবই করেছে তারা। এ ক্ষেত্রে খালেদা-জিয়া কেউই কম করেননি। জিয়াউর রহমানই করেছে সবচেয়ে বেশি। শিক্ষার্থীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়া, ভোট চুরিসহ সবই করেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 abcbdtv
Design & Develop BY ABC BD TV
themesba-lates1749691102